Loading...

  • 10 Jun, 2026

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: পরিবারপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: পরিবারপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকালে ইউনুস আলী আকন্দা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং দেবাশীষ রায় চৌধুরী-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দা জানিয়েছেন, সোমবার (৮ জুন) এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দার অভিযোগ, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা গাফিলতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতাল ভবনটি সংশ্লিষ্ট নির্মাণবিধি ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও মান নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে মৃত্যুর কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকদের মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy