ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বুলবুল আইসিসির কাছে ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বোর্ডের গঠন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক এই জাতীয় অধিনায়ক আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের জন্য বরাদ্দ আর্থিক সহায়তা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্রিকবাজের সঙ্গে কথা বলা একটি সূত্র দাবি করেছে, বুলবুল বাংলাদেশের জন্য আইসিসির অর্থায়ন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আইসিসি ইতোমধ্যে বর্তমান বিসিবিকে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান বোর্ডও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছে।
তবে পুরো বিষয়টিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন বুলবুল। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আইসিসির কাছে বাংলাদেশের অর্থায়ন বন্ধের কোনো অনুরোধ তিনি কখনো করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বুলবুল বলেন, “আমি কখনোই আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ফান্ডিং বন্ধ করার অনুরোধ করিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হয়, এমন কোনো উদ্যোগ আমার পক্ষ থেকে নেওয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।”
বর্তমান সংকটের পেছনে রয়েছে বিসিবির নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে। গত বছরের বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে বুলবুল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে এনএসসি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা হিসেবে Tamim Iqbal-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। নতুন নির্বাচন আয়োজন এবং বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে।
এরপর ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিম ইকবাল সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আগামী চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
বুলবুলের চিঠি নিয়ে বিতর্ক এবং তার পাল্টা বক্তব্যের পর বিষয়টি এখন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আইসিসি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও বিসিবির প্রশাসনিক বৈধতা এবং ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।