Loading...

  • 26 Jul, 2026

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাঠে জামায়াত, মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাঠে জামায়াত, মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা

সরকার ঘোষিত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বুধবার (৩ জুন) জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশের বিভিন্ন মহানগরীতে প্রতিবাদী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীতে বিকেল ৫টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হবে।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই মূল্যহার চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে। ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প—সব শ্রেণির গ্রাহকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে হঠাৎ করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি অভিযোগ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ এমনিতেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে শিল্প, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জামায়াতের এই নেতা আরও দাবি করেন, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খাতটির অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায় সাধারণ ভোক্তাদের বহন করতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের দায়িত্বশীলতার অভাবেরই প্রতিফলন। তিনি বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, দেশের সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে জনবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতেই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ট্যাগ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিইআরসি, বিদ্যুৎ খাত, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিক্ষোভ কর্মসূচি, বায়তুল মোকাররম, জাতীয় বাজেট, অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন, কৃষি খাত, বাংলাদেশ রাজনীতি, বিদ্যুৎ সংকট, জনদুর্ভোগ, মহানগরী বিক্ষোভ, বিদ্যুৎ বিল, বাজারদর, গণবিরোধী সিদ্ধান্ত।