Loading...

  • 10 Jun, 2026

বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনারের পদত্যাগ, পুঁজিবাজারে নতুন নেতৃত্ব আসছে

বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনারের পদত্যাগ, পুঁজিবাজারে নতুন নেতৃত্ব আসছে

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে (এফআইডি) নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

পদত্যাগকারী চার কমিশনার হলেন মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফউদ্দিন। প্রায় ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর তারা কমিশনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই পদত্যাগের ফলে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থায় নতুন নেতৃত্ব আসার পথ উন্মুক্ত হলো।

জানা গেছে, ব্যক্তিগত কাজে অধিক সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার সহকর্মীরা কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, তার নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ২১ মাসে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। মার্জিন ঋণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা সংক্রান্ত মোট পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিরীক্ষা ব্যবস্থা এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ক তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রাশেদ মাকসুদ আরও জানান, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’। এসব খসড়া ইতোমধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের সুযোগ কমিয়ে বাজারকে নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ইস্যুকারী কোম্পানিগুলো আইনের আওতায় থেকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গত দুই বছরে গড়ে ওঠা দক্ষ ও উদ্যমী দল ভবিষ্যতেও দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের পর নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকার আজই নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নাম চূড়ান্ত করতে পারে। চেয়ারম্যান পদে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংক, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল।

চার বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও প্রায় ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করলেন রাশেদ মাকসুদ। তার নেতৃত্বে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা নিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। এখন নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিএসইসি কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের।


SEO ট্যাগ: বিএসইসি, খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, বিএসইসি চেয়ারম্যান পদত্যাগ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, পুঁজিবাজার, শেয়ারবাজার, কমিশনার পদত্যাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পুঁজিবাজার সংস্কার, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ক্যাপিটাল মার্কেট, বিনিয়োগ, শেয়ারবাজার সংবাদ, বাংলাদেশ অর্থনীতি, বিএসইসি নতুন চেয়ারম্যান, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, আর্থিক খাত, বাংলাদেশ নিউজ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy