সরেজমিনে দেখা যায়, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় লঞ্চগুলো সারিবদ্ধভাবে পন্টুনে নোঙর করে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে থাকেন। অনেকে টিকিট সংগ্রহ করে লঞ্চে উঠে বসে ছিলেন, আবার কেউ কেউ পন্টুনে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করেন। ঈদুল আজহা সামনে থাকায় যাত্রীচাপও ছিল তুলনামূলক বেশি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার পর থেকেই পদ্মা নদীর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। বাতাসের তীব্রতার কারণে নদীতে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে লঞ্চ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সুপারভাইজার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তাই ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ঝোড়ো বাতাস ও উত্তাল নদীর কারণে লঞ্চ চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার লঞ্চ চলাচল শুরু করা হয়।
অন্যদিকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার পান্নালাল নন্দী জানান, এই নৌরুটে বর্তমানে ১৮টি লঞ্চ যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ঈদ সামনে থাকায় সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করে। তবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে জানা গেছে, নদীভাঙনের কারণে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের আগের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঘাটটি সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার সকালেই পুরোনো ট্রাক টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে নতুন স্থানে লঞ্চঘাট সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে এখনো মেরামত ও অবকাঠামোগত কিছু কাজ চলমান রয়েছে। ফলে নতুন ঘাট এলাকায় যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধার মুখোমুখিও হতে হয়েছে।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরমুখো মানুষের চাপ ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছেন। এমন অবস্থায় সাময়িক লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি দেখা দেয়।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ঈদের পুরো সময়জুড়েই লঞ্চ ও ফেরি চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করা হবে।