Loading...

  • 10 Jun, 2026

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ যুক্ত হলো নৌবাহিনীতে, বাড়বে অপারেশনাল সক্ষমতা

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ যুক্ত হলো নৌবাহিনীতে, বাড়বে অপারেশনাল সক্ষমতা

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষ প্রকৌশলীদের প্রচেষ্টায় নির্মিত ৭০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক ভাসমান ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। এই সংযোজনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর কারিগরি, অপারেশনাল এবং লজিস্টিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অত্যাধুনিক এই ভাসমান ক্রেনটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় ২০২৪ সালের ৩০ জুন থেকে ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা, আধুনিক নকশা এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয়ে ক্রেনটি সফলভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভাসমান ক্রেনটি ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ১৫ মিটার প্রস্থ এবং ৩ মিটার গভীরতাসম্পন্ন একটি আধুনিক জলযান। ৭০ টন পর্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম উত্তোলনের সক্ষমতা থাকায় এটি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে। ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলাচল করতে পারে, যা এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়েছে।

নৌবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, ডকইয়ার্ড, জাহাজ মেরামত কেন্দ্র এবং অপারেশনাল এলাকায় ভারী সরঞ্জাম স্থানান্তর, স্থাপন ও প্রতিস্থাপনের কাজে ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে পূর্বে সময়সাপেক্ষ এবং জটিল হিসেবে বিবেচিত অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, নতুন এই ভাসমান ক্রেন নৌবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। তিনি জানান, ভারী যন্ত্রপাতি উত্তোলন, স্থানান্তর, মেরামত ও প্রতিস্থাপনের মতো জটিল কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনায় ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-অবকাঠামোর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও সক্ষম ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ক্রেন সেই প্রচেষ্টারই একটি সফল উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে এমন ভারী সক্ষমতার জলযান নির্মাণ দেশের প্রকৌশল খাতের জন্য একটি বড় অর্জন। এর ফলে শুধু নৌবাহিনী নয়, ভবিষ্যতে সামুদ্রিক ও শিল্প খাতেও দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।

এছাড়া ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ নির্মাণ দেশের ডকইয়ার্ড ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে এমন আধুনিক ভাসমান ক্রেন নির্মাণের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় দক্ষ জনশক্তির বিকাশ ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নৌবাহিনীর বহরে নতুন এই সংযোজন ভবিষ্যতে সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি উদ্ধার ও কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশীয় প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মিত ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ কেবল একটি ভাসমান ক্রেন নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, আত্মনির্ভরতা এবং নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

SEO ট্যাগ: বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিএনএফসি বলীয়ান, ভাসমান ক্রেন, দেশীয় প্রযুক্তি, নৌবাহিনীর সক্ষমতা, নৌবাহিনী প্রধান, এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, নারায়ণগঞ্জ, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা খাত, বাংলাদেশ নৌবাহিনী সংবাদ, ৭০ টন ক্রেন, আধুনিক জলযান, অপারেশনাল সক্ষমতা, লজিস্টিক সহায়তা, নৌ প্রযুক্তি, দেশীয় উদ্ভাবন, বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সংবাদ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy