পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত ব্যক্তি নজির ফরাজী (৪৮), যিনি উপজেলার বেতাগী গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি নজির ফরাজী। তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রথমদিকে বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। কারণ নজির মাঝে মধ্যেই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যেতেন এবং কয়েক দিন পর স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসতেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
নিহতের ছেলে রাসেল ফরাজী জানান, পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর বাবার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের পরিবারের জন্য আসে এক মর্মান্তিক সংবাদ। তাঁর চাচা মামুন ফরাজী বেতাগী গ্রামের একটি খালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ অনুভব করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি খালের কাছে গিয়ে কচুরিপানার ভেতর একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। রাসেল ফরাজীর দাবি, তাঁর বাবার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া মরদেহটি কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক এবং নৃশংস। একটি নির্জন খালে মরদেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা পরিকল্পিত অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় হত্যার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সেফালি বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় রেখে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর নিখোঁজ হওয়ার আগের গতিবিধি এবং কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। তাই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক বার্তা যাবে।
এদিকে নজির ফরাজীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশও দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে।
ট্যাগ:
পটুয়াখালী, দশমিনা, হত্যাকাণ্ড, মরদেহ উদ্ধার, নজির ফরাজী, অপরাধ, পুলিশ তদন্ত, খাল থেকে মরদেহ, পরিকল্পিত হত্যা, আইনশৃঙ্খলা, গ্রেপ্তার অভিযান, বাংলাদেশ সংবাদ, স্থানীয় খবর, ময়নাতদন্ত, মামলা