রোববার (৭ জুন) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের অনুমোদন পেলে হান হান সেওং-সুক দক্ষিণ কোরিয়ার গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হান হান সেওং-সুকের প্রশাসনিক ও করপোরেট উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Naver-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেছেন।
কাং হুন-সিকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নতুন অর্থনৈতিক যুগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত রূপান্তর প্রক্রিয়ায় হান গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিতে পারবেন। বিশেষ করে এআই, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতের সম্প্রসারণে তার অভিজ্ঞতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।
এছাড়া তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রযুক্তিখাত এবং রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির সুফল যাতে শুধু বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে লক্ষ্যে হান কাজ করবেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হান হান সেওং-সুকের মনোনয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বের উপস্থিতি বাড়ানোর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশে দেশটির জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টশাসিত সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও চূড়ান্ত নির্বাহী ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে। তবে সরকারি নীতি বাস্তবায়ন, মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় এবং প্রশাসনিক তদারকির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।