দুই যুগ আগে দায়ের হওয়া সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন। এর মধ্যে মোশাররফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজির ছিলেন। অন্যদিকে তোফায়েল আহমেদ ও আনোয়ারুল ইসলাম পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
দুদকের কৌঁসুলি ইশতিয়াক আহমেদ জানান, অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। জামিনে থাকা আসামির পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
এদিন তোফায়েল আহমেদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে তার আইনজীবীর করা আবেদনও নথিভুক্ত করেন আদালত। আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে জানান, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং স্মৃতিশক্তি হারানোর কারণে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে সক্ষম নন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন বলেও জানানো হয়।
দুদকের কৌঁসুলি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আদালত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মামলাটি দীর্ঘদিনের হওয়ায় বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপনের উদ্দেশ্যে তা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে মামলার বিচার কার্যক্রম আবার শুরু হয়।