পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ শেষ হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগে। তবে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে অনুষ্ঠিত অস্থায়ী পশুর হাটের চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। ঈদের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও হাটের বাঁশ, খুঁটি, ত্রিপল, প্যান্ডেল এবং অন্যান্য অস্থায়ী কাঠামোর বড় একটি অংশ অপসারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে পশুর বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনাও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিয়ম অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে পশুর হাটের সব ধরনের অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের। পাশাপাশি হাটে জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ঈদের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও দিয়াবাড়ির বিভিন্ন স্থানে এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাটের নানা সরঞ্জাম ও অবশিষ্ট কাঠামো।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে পশু রাখার জন্য তৈরি করা প্যান্ডেলের বাঁশ, খুঁটি ও ত্রিপলের অনেক অংশ এখনো খোলা হয়নি। কোথাও কোথাও শ্রমিকরা অপসারণের কাজ করলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে এক ধরনের অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। হাটের বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি স্থানগুলোতে বর্জ্যের দুর্গন্ধ আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গরম আবহাওয়ায় এসব বর্জ্য দ্রুত পচে গিয়ে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, হাটের বিভিন্ন খোলা জায়গায় জমে থাকা পানি। বৃষ্টির পানি ও অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এসব স্থানে ছোট-বড় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব জায়গা ইতোমধ্যে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
দিয়াবাড়ি এলাকার খোলা মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানগুলো সারা বছর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনোদন, হাঁটাহাঁটি ও খেলাধুলার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু পশুর হাটের অবশিষ্ট কাঠামো ও বর্জ্যের কারণে সেই স্বাভাবিক পরিবেশ এখন আর নেই। অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে মাঠে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
শুধু মাঠ বা হাট এলাকা নয়, আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং মেট্রোরেল স্টেশনের নিকটবর্তী এলাকাগুলোও বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রধান সড়কের ওপরও জমে আছে বর্জ্য, যা শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, বরং চলাচলকারী মানুষের জন্যও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সড়কের বেহাল অবস্থা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে অনেক দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। কিছু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, রাস্তার ক্ষতি এবং চারপাশের বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না।
হাট পরিচালনার সময় স্থাপন করা কাঁটাতারের বেড়া ও অস্থায়ী অবকাঠামোর কারণে সড়ক বিভাজকের অনেক গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে গেছে, আবার কিছু জায়গায় সবুজায়নের অংশ নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিবেশগত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত পুনর্বাসন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী, পথচারী এবং দর্শনার্থীরা দ্রুত হাটের সব অবশিষ্ট কাঠামো অপসারণ, বর্জ্য পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দিয়াবাড়িকে আগের পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে ফিরিয়ে আনবে। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকা হিসেবে দিয়াবাড়ির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
SEO ট্যাগ: উত্তরা দিয়াবাড়ি পশুর হাট, দিয়াবাড়ি পশুর হাট বর্জ্য, ঈদুল আজহা ২০২৬, ডিএনসিসি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পশুর হাটের অব্যবস্থাপনা, দিয়াবাড়ি বর্জ্য সমস্যা, উত্তরা সংবাদ, ঢাকা নগর সমস্যা, পশুর হাট কাঠামো অপসারণ, মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা, ডেঙ্গু ঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ, রাজধানী ঢাকা, স্থানীয় ভোগান্তি, সড়ক ক্ষতি, নগর পরিচ্ছন্নতা, ঈদ পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উত্তরার খবর, বাংলাদেশ নগর উন্নয়ন।