পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৮৯ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিভিন্ন ফিরতি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এসব হাজি দেশে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হজ বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ২ হাজার ৮২ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ১৫ হাজার ৬০৭ জন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে হাজিদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত এই ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় মারা গেছেন। হজের সময় অতিরিক্ত গরম, শারীরিক জটিলতা, বয়সজনিত সমস্যা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত কারণে প্রতিবছরই কিছু হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।
হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৪ হাজার ৫৭৪ জন হাজি। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫ হাজার ৮০৪ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ফিরেছেন ৭ হাজার ২৮৩ জন হাজি। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন আরও ২৮ জন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৩টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১০টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১৮টি ফ্লাইট। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাকি হাজিদেরও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
হজ মৌসুমে হাজিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। হজ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের জন্য এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ১০৬টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৪ হাজার ২৮৭টি সেবা দেওয়া হয়েছে। এসব সেবার মধ্যে ছিল চিকিৎসা সহায়তা, তথ্য প্রদান, হজ-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান।
বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আল হারাম ইমার্জেন্সি হাসপাতালে (তাইসির) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ জন। কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ জন এবং কিং আব্দুল্লাহ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও ২ জন হাজি।
এছাড়া আবির গ্রুপের আওতাধীন সৌদি ন্যাশনাল হাসপাতাল, আজিজিয়ায় ৫ জন, আন-নুর হাসপাতালে ৬ জন এবং কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে ৪ জন হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হজ কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ থেকে হাজিরা সৌদি আরবে যান। হজযাত্রী পরিবহনের শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয় ২১ মে। আর ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত ৩০ মে থেকে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার হাজিদের যাতায়াত, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থায় আগের তুলনায় আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে হাজিদের সেবা প্রদান কার্যক্রম অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও হজ পালন শেষে স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে পেরে হাজিদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিমানবন্দর এলাকায় স্বজনদের অপেক্ষা ও আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্যও নজরে পড়েছে।
ট্যাগ:
হজ ২০২৬, বাংলাদেশি হাজি, সৌদি আরব, হজ ফ্লাইট, হাজিদের দেশে ফেরা, হজ বুলেটিন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স, ফ্লাইনাস, হাজিদের মৃত্যু, মক্কা, মদিনা, হজ চিকিৎসা সেবা, বাংলাদেশ হজ অফিস, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়