Loading...

  • 10 Jun, 2026

হুতিদের নতুন ঘোষণা: লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সব জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধ

হুতিদের নতুন ঘোষণা: লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সব জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধ

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং সংলগ্ন জলসীমায় ইসরায়েলের মালিকানাধীন কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

হুতিদের দাবি, গাজায় চলমান সংঘাত এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ হিসেবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গোষ্ঠীটি বলছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল যদি গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে অথবা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, তাহলে হুতিরাও তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের পরিধি সম্প্রসারণ করবে। গোষ্ঠীটি সতর্ক করে জানায়, তারা শুধু ইয়েমেনের জাতীয় স্বার্থ নয়, বরং ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই অবস্থান গ্রহণ করেছে।

হুতিদের ভাষ্যমতে, ফিলিস্তিনসহ অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান অবরোধ ও সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে তারা নীরব থাকবে না। প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাত থেকে ইরান ইসরায়েলের একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হুতিরাও এসব অভিযানে নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করেছে।

গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত জাফা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক শিপিং খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হুতিদের এই ঘোষণা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী দিনগুলোতে ইসরায়েল, ইরান এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকে নজর থাকবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy