Loading...

  • 10 Jun, 2026

জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকা, ঘাটতি ১.৭৩ লাখ কোটি

জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকা, ঘাটতি ১.৭৩ লাখ কোটি

বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাবিত এই বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (৬ জুন) দলটির পক্ষ থেকে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায়ের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, অতীতে জনগণের দেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের প্রত্যাশা ও দাবিকে উপেক্ষা করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সুশাসন ও জবাবদিহিতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছায়া বাজেটের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এই বাজেট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য নয়; বরং দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। অন্যদিকে এসব উপাদানের অভাব থাকলে যে কোনো বাজেট বাস্তবায়নই কঠিন হয়ে পড়বে।

ডা. শফিকুর রহমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বড় একটি অংশ অর্থবছরের শেষদিকে তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে মে ও জুন মাসে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তার মতে, এতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।

এ সময় তিনি অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তনেরও প্রস্তাব দেন। বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত চললেও সেটিকে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান তিনি। তার যুক্তি, অর্থবছরের শেষ সময়ে বর্ষা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে অর্থবছর সমন্বয় করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও পরিকল্পিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

ছায়া বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে বলে দলটির নেতারা দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy