Loading...

  • 25 May, 2026

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ ৫ আমল

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ ৫ আমল

আরবি হিজরি সনের শেষ মাস জিলহজ মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় একটি মাস। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ এই মাসেই পালন করা হয়। একই সঙ্গে ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহান শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির ইবাদত। তবে শুধু হজ ও কোরবানির কারণেই নয়, জিলহজের প্রথম ১০ দিন নিজস্ব মর্যাদা ও ফজিলতের কারণেও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “শপথ প্রভাতের এবং শপথ দশ রাতের।” (সুরা ফজর: ১-২)। অধিকাংশ তাফসিরবিদের মতে, এখানে জিলহজের প্রথম ১০ রাতের কথা বোঝানো হয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট হয় যে, এই সময় আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জিলহজের প্রথম ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই।” সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়?” উত্তরে নবীজি (সা.) বলেন, “না, তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।” (সহিহ বুখারি)

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এই ১০ দিনে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই একজন মুমিনের উচিত এই সময়টাকে গাফিলতিতে নষ্ট না করে আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও নেক আমলে কাটানো।

এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাসবিহ পাঠ করার গুরুত্ব রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামও এই সময় উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করতেন। এছাড়া কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, দান-সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, গরিব-দুঃখীদের সহযোগিতা করা এবং গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

বিশেষ করে ৯ জিলহজ তথা আরাফার দিনের রোজার ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে, এই রোজা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়। তবে হজে অবস্থানরত হাজিদের জন্য এদিন রোজা না রাখাই সুন্নত।

এছাড়া যারা কোরবানি করার নিয়ত করেন, তাদের জন্য জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল, নখ বা শরীরের পশম না কাটার নির্দেশনা রয়েছে। যদিও এটি ওয়াজিব নয়, তবে সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবনেও মুসলমানদের উচিত এই ১০ দিনকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। কারণ এই সময়ের ইবাদত ও নেক আমল মানুষের জীবনে রহমত, বরকত ও গুনাহ মাফের বড় মাধ্যম হতে পারে।

ট্যাগ:
#জিলহজ #জিলহজের_ফজিলত #হজ #কোরবানি #ইসলাম #ইসলামিক_আমল #আরাফার_রোজা #তাকবিরে_তাশরিক #নেক_আমল #ইসলামিক_জ্ঞান #ধর্ম #মুসলিম #ঈদুল_আজহা #ইসলামিক_লাইফ #বাংলা_ইসলামিক_নিউজ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy