Loading...

  • 10 Jun, 2026

কোয়েটা ট্রেনে বোমা হামলা: নিহতদের ঘটনায় গভীর শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোয়েটা ট্রেনে বোমা হামলা: নিহতদের ঘটনায় গভীর শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় ভয়াবহ বোমা হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর এমন নৃশংস হামলা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও মানবতাবিরোধী। তিনি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও উগ্রবাদকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় জাফর এক্সপ্রেসের একটি শাটল ট্রেনকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি কোয়েটা সেনানিবাস এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের একাধিক বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলে ব্যাপক হতাহতের সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা কম বলা হলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ২৪ জনে। আহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ ৮০ জনের বেশি যাত্রী। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার না করলেও বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। বিশেষ করে ট্রেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অতীতেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বেলুচিস্তান অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রেনে হামলার মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও মানবিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে এই প্রতিক্রিয়ায়।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy