নেত্রকোনার মদন উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল পাচারের অভিযোগে ২০ টন চাল জব্দের ঘটনার তদন্তে আরও প্রায় ৪৩ টন ৫৬০ কেজি অতিরিক্ত সরকারি চালের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঘটনার পর খাদ্য বিভাগ গুদামটি সিলগালা করেছে।
রোববার (১৭ মে) খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্তকালে গুদামের ধান ও চালের হিসাব মিলিয়ে দেখা হলে মজুতের বাইরে অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়া যায়। পাশাপাশি গুদাম ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অসংগতিও ধরা পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মদন উপজেলা থেকে ৬৬৭ বস্তায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল ট্রাকে করে বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চালগুলো পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা-মদন সড়কের হাঁসকুঁড়ি মৈধাম এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে সরকারি সিলযুক্ত বস্তাভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার সকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আটক ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী ছাড়াও মদন উপজেলার মনোহরপুর এলাকার এনামুল হকসহ অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগও পৃথক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে অতিরিক্ত ৪৩ টনের বেশি চালের সন্ধান মেলায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম বলেন, অতিরিক্ত পাওয়া চাল সরকারি মজুতের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আর জব্দ হওয়া ২০ টন চালের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান জানান, তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যাগ:
নেত্রকোনা, মদন, সরকারি চাল, খাদ্যগুদাম, চাল পাচার, খাদ্য বিভাগ, পুলিশ অভিযান, গুদাম সিলগালা, সরকারি খাদ্যগুদাম, কালোবাজারি