মেডিকেল পরীক্ষায় তার পায়ের কাফ মাসলে গ্রেড-টু ইনজুরি ধরা পড়েছে। ফলে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে। এতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর পাশাপাশি মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচেও তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ডান পায়ের কাফ মাসলে গুরুতর চোট শনাক্ত হয়েছে। দলের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার জানিয়েছেন, নেইমারের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়েন তিনি। সেই চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে। এরপর ধীরে ধীরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও আবারও নতুন ইনজুরি তাকে বড় ধাক্কা দিল।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার বলেন, জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর নেইমারের বিস্তারিত শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এমআরআই স্ক্যানে দেখা গেছে, এটি সাধারণ কোনো ফোলা বা সামান্য ব্যথা নয়; বরং পেশিতে গুরুতর ধরনের চোট রয়েছে। আপাতত তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম এবং বিশেষ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও জানান, চোটের পরিস্থিতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও এখনো তাকে চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে চিকিৎসক দল তার পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল দল ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে দলের প্রথম অনুশীলন সেশনেও অংশ নিতে পারেননি নেইমার। ডান পায়ের কাফ মাসলের সমস্যার কারণে তাকে আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে বিশেষ মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইনজুরির প্রকৃতি নিশ্চিত করতেই বাড়তি মেডিকেল পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরীক্ষার ফলেই গ্রেড-টু ইনজুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
সবশেষ গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান লিগ ব্রাসিলেইরাওতে সান্তোসের হয়ে মাঠে নামেন নেইমার। করিতিবার বিপক্ষে ওই ম্যাচে তার দল পরাজিত হয়। ম্যাচ শেষে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে তিনি জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারের সঙ্গে একটি ক্লিনিকে গিয়ে এমআরআই স্ক্যান করান। সেখানেই ধরা পড়ে নতুন এই ইনজুরি।
এদিকে নেইমারের চোটে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ বিশ্বকাপের আগে দলের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে অভিজ্ঞ এই তারকার উপস্থিতি দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। আগামী রোববার ব্রাসিলিয়ায় পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকায় সেই ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আগামী ৫ জুন, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে মিশর। সেই ম্যাচেও নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
নেইমারের সাম্প্রতিক ইনজুরি ব্রাজিল কোচিং স্টাফের জন্যও বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের আক্রমণভাগে তার অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই এখন ব্রাজিল ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।