Loading...

  • 10 Jun, 2026

রামিসা হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি, আদালতে হাজির দুই আসামি

রামিসা হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি, আদালতে হাজির দুই আসামি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের এই পর্যায়ে আসামিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যদিকে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মামলাটি আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে প্রবেশ করে। বিচার চলাকালে তদন্তে জব্দ করা বিভিন্ন আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কাটা গ্রিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল, যেগুলো সাক্ষীদের মাধ্যমে শনাক্ত করে মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার শুনানিতে মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন নিহত শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, প্রতিবেশী, স্বজন, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত আলামতের ভিত্তিতে আদালত মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ফ্ল্যাটের শৌচাগারের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আটক করা হয়েছিল।

তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন।

বর্তমানে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হলে আদালত পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবেন। এর মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং রায়ের জন্য দিন ধার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন হবে।

শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো স্পর্শকাতর এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে শুরু থেকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

ট্যাগ:
#রামিসা_হত্যা #পল্লবী #শিশু_হত্যা #ধর্ষণ_মামলা #সোহেল_রানা #স্বপ্না_খাতুন #আদালত #মহানগর_শিশু_সহিংসতা_দমন_ট্রাইব্যুনাল #বাংলাদেশ_সংবাদ #অপরাধ #বিচার #আইন_আদালত #মিরপুর #ক্রাইম_নিউজ #ব্রেকিং_নিউজ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy