আড়াইশ কোটি টাকার আলোচিত শেয়ার কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক Shakib Al Hasanসহ ১৫ আসামির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পুঁজিবাজারে আলোচিত এই কারসাজির ঘটনায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি বিএসইসি থেকে তদন্ত প্রতিবেদন, লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য, শেয়ার বিনিয়োগের কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব নথি যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে সংঘটিত প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও বাজার কারসাজির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
দুদকের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত ও প্রলুব্ধ করে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়, আলোচিত শেয়ার কারসাজিকারী আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন সাকিব।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাজারে প্রভাব বিস্তার করা হয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়েছিল। পরে উচ্চমূল্যে শেয়ার বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, শুধু শেয়ার কারসাজিই নয়, সাবেক এই ক্রিকেট তারকার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য তাঁর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথিও যাচাই করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই মামলার তদন্ত দেশের শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আলোচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা থাকায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ট্যাগ:
#সাকিব_আল_হাসান #দুদক #বিএসইসি #শেয়ার_কেলেঙ্কারি #পুঁজিবাজার #দুর্নীতি #বাংলাদেশ_ক্রিকেট #শেয়ার_কারসাজি #দুদক_তদন্ত #সোনালী_পেপারস #ক্রিস্টাল_ইন্স্যুরেন্স #প্যারামাউন্ট_ইন্স্যুরেন্স