Loading...

  • 10 Jun, 2026

টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ প্রতিবেদনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, নিজস্ব তথ্যের ওপর জোর

টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ প্রতিবেদনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, নিজস্ব তথ্যের ওপর জোর

নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতিবেদনে তাদের নিজস্ব কোনো তদন্ত না থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পুলিশের বিভিন্ন সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা এবং একটি করে সনদ প্রদান করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন সাধারণত সংবাদপত্রের কাটিং বা বিভিন্ন প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। তাদের নিজস্ব তদন্ত বা সরেজমিন যাচাই নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাই এ ধরনের প্রতিবেদনকে সরাসরি গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অপরাধচিত্র বোঝার জন্য সরকারি সংস্থা যেমন পুলিশ বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে ডাকাতি, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত থাকে।

টিআইবির প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার কাছে ওই নির্দিষ্ট প্রতিবেদনটি উপস্থিত নেই। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে অপরাধ পরিস্থিতিতে উন্নতি হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের হার কমেছে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু। এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। তবে কোনো প্রতিবেদনই সরাসরি চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে সরকারের নিজস্ব তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকটি সাম্প্রতিক পুলিশি সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্ব পালন করে ৫০ জন বাসযাত্রীর জীবন রক্ষা, এবং গজারিয়ায় কিশোরী হত্যা মামলার দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার। এসব ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।

সব মিলিয়ে, টিআইবির প্রতিবেদন ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে সরকার নিজস্ব অপরাধ পরিসংখ্যানকে ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে নাগরিক সমাজ ও গবেষণা সংস্থাগুলো ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছে—যা দেশের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy