Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

বারবিকিউ পার্টিতে ‘ঝাক্কাস’ পান করে তরুণের মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থ ৪

বারবিকিউ পার্টিতে ‘ঝাক্কাস’ পান করে তরুণের মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থ ৪

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি করা ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি পানীয় সেবনের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বারবিকিউ পার্টির পর অসুস্থ পাঁচ তরুণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনি এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধুর আগমন উপলক্ষে কয়েকজন তরুণ মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে মদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে সেবন করেন তাঁরা।

পার্টি শেষে রাতে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। এরপর শনিবার ভোরের দিকে সাকিবসহ পাঁচজন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু

নিহত মোহাম্মদ সাকিব কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মৃত এফরান মিয়ার ছেলে। অসুস্থদের মধ্যে ছিলেন সাইফুল ইসলাম পাখি (২২), মোহাম্মদ টিপু, মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মোহাম্মদ রাসেল (২৩)।

সাকিব ও টিপুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের নোয়াখালী শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম পাখি ও টিপুকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মনির হোসেন শান্ত ও মোহাম্মদ রাসেলকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকের বক্তব্য

নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, বিষাক্ত অ্যালকোহল বা মদপানের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ তরুণদের হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তবে ঠিক কী ধরনের মাদক বা উপাদান মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ পানীয় তৈরি করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরাও প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত মদ বা মাদকমিশ্রিত পানীয় গ্রহণের কারণে অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত

সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানিয়েছেন, একাধিক মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের ওই পানীয় তৈরি করে পাঁচ তরুণ পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরপর তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ নিহত সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

মাদকমিশ্রিত পানীয় নিয়ে উদ্বেগ

একই পানীয় সেবনের পর একই সঙ্গে কয়েকজন তরুণ অসুস্থ হয়ে পড়া এবং একজনের মৃত্যু ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উপাদান বা মাদক একসঙ্গে মিশিয়ে পানীয় তৈরি করার ক্ষেত্রে এর উপাদান ও মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকায় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নোয়াখালীর এই ঘটনায় এখন মূলত ওই পানীয়তে কী কী উপাদান ছিল এবং সেগুলোর কারণে ঠিক কী ধরনের বিষক্রিয়া হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্ত এবং অসুস্থদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ঝাক্কাস’ নামে পরিচিত ওই মিশ্র পানীয় সেবনের পরই পাঁচ তরুণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের একজনের মৃত্যু এবং অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।