Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

চিকিৎসার বাইরে ৯২ শতাংশ মানসিক রোগী, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিস্থিতি

চিকিৎসার বাইরে ৯২ শতাংশ মানসিক রোগী, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিস্থিতি

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৯২ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, রোগ শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেও সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসার বাইরে থাকা রোগীর সংখ্যা বেশি হলে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক যোগাযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন

মানসিক রোগ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতার অভাব অনেক সময় চিকিৎসা নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে মানসিক সমস্যাকে অসুস্থতা হিসেবে বিবেচনা করেন না। আবার সামাজিক কুসংস্কার, নেতিবাচক ধারণা কিংবা অন্যের সমালোচনার আশঙ্কায় অনেকে নিজের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে চান না।

ফলে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার পরিবর্তে তাঁরা দীর্ঘদিন সমস্যার সঙ্গে বসবাস করেন। অথচ মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনেক সমস্যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথে বাধা

মানসিক রোগীদের চিকিৎসার বাইরে থাকার পেছনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা, চিকিৎসাসেবার ব্যয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অসুবিধা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব—এসব বিষয় চিকিৎসা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানা এবং সমস্যার শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়ার প্রবণতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তবে ৯২ শতাংশ রোগী চিকিৎসার বাইরে থাকার পেছনে কোন কারণগুলো কতটা দায়ী, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা জরুরি

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, মন খারাপ থাকা, দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ হারানো কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অসুবিধা দেখা দিলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে পরিবার ও কাছের মানুষের সহানুভূতিশীল আচরণ মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির জন্য সহায়ক হতে পারে। মানসিক রোগ নিয়ে বিদ্রূপ বা বৈষম্য না করে তাঁদের চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার দাবি

মানসিক রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞসেবা সহজলভ্য করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় বাড়ানো গেলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ব্যয় ও প্রাপ্যতার বাধাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, মানসিক রোগীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসার বাইরে থাকার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ। তবে উল্লিখিত ৯২ শতাংশের পরিসংখ্যানটি কোন গবেষণা, জরিপ বা সময়কালের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তা মূল প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।