রাজধানী ঢাকার বাতাসের মানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। সর্বশেষ বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে। এর আগে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বায়ুর মানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ফলে নগরবাসীর জন্য দূষিত বাতাসের চাপ কিছুটা কমেছে বলে বায়ুমান সূচকের অবস্থান থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
ঢাকার বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই নগরজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত বিষয়। বিশেষ করে রাজধানীর বিপুল জনসংখ্যা, যানবাহনের চাপ, নির্মাণকাজ এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তৈরি হওয়া ধুলাবালি বায়ুর মানের ওপর প্রভাব ফেলে। শুষ্ক মৌসুমে এসব কারণে বাতাসে ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। তবে আবহাওয়া, বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর মানেও ওঠানামা করতে পারে।
দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মাধ্যমে দূষণের মাত্রা প্রকাশ করা হয়। সেই সূচকে ঢাকার ৩৭তম অবস্থান রাজধানীর বাতাসে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তালিকায় অবস্থান ৩৭তম হওয়ায় ঢাকার বায়ু পুরোপুরি নির্মল—এমনটা বলা যায় না। বরং এটি নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমান পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র।
বায়ুদূষণের মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশক। বাতাসে থাকা বিভিন্ন দূষিত কণার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত সূচকের মান যত কম থাকে, বাতাসের মান তত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। বিপরীতে সূচকের মান বাড়লে বাতাসে দূষণের মাত্রাও বেশি বোঝায়।
ঢাকার বাতাসের মান কেন গুরুত্বপূর্ণ
রাজধানীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রয়োজনে বাইরে বের হন। ফলে বায়ুর মানের পরিবর্তন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে বাইরে চলাচলকারী মানুষের জন্য অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় দূষিত পরিবেশে অবস্থান করার বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঢাকার বাতাসের উন্নতি তাই নগরবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হলেও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। শুধু কোনো একটি সময়ে বায়ুর মানের উন্নতি ঘটলেই দূষণ পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সূচকের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব।
রাজধানীর বায়ুমান নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ সূচকে ঢাকার ৩৭তম অবস্থান সেই মুহূর্তের একটি পরিমাপ। সময়ের সঙ্গে আবহাওয়া ও নগরীর পরিবেশগত পরিস্থিতি বদলানোর কারণে এই অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ঢাকার বায়ুর মান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পেতে নিয়মিত ও হালনাগাদ তথ্যের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
নগরবাসীর জন্য বার্তা
ঢাকার বাতাসের মানে উন্নতি দেখা যাওয়ায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও দূষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বায়ুর মানের তথ্য নগরবাসীকে দিনের পরিবেশগত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে বাতাসের মান খারাপ হলে বাইরে অবস্থানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিয়মিত বায়ুমান সূচকের তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ তালিকায় ঢাকার ৩৭তম অবস্থান মূলত রাজধানীর বায়ু পরিস্থিতির একটি সময়ভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এই অবস্থান কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে বায়ুর মানের পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত পরিস্থিতির ওপর।