Loading...

  • 28 Jun, 2026

ইরান হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ফোন করেছিল— দাবি ট্রাম্পের, অস্বীকার তেহরানের

ইরান হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ফোন করেছিল— দাবি ট্রাম্পের, অস্বীকার তেহরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বোমা হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

বুধবার (১০ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান থামানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিয়েছে, ইরান যদি সেগুলো মেনে না নেয়, তাহলে আগামী দিনগুলোতেও আরও ব্যাপক ও কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

আইআরজিসির দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান কখনোই চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল ইরানের ধারাবাহিক উসকানি ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব। ওয়াশিংটনের দাবি, অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত দুটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আকার দিতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।

তবে ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের পাল্টা অস্বীকৃতির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানাচ্ছে।