ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের শর্ত বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কোনো সুযোগ নেই।
গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি সরাসরি ইরানের দাবিগুলো পূরণের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, তেহরান তাদের অবস্থান ও শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। ইরানের দাবি পূরণ না হলে আগের অবস্থায় আলোচনা ফিরিয়ে নেওয়া এবং প্রণালি খুলে দেওয়ার পথও উন্মুক্ত হবে না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই গালিবাফের সর্বশেষ বক্তব্যে প্রণালিটি পুনরায় খোলার বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এর আগে আগস্টেও গালিবাফ জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। সে সময় তিনি নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার মতো বিষয়গুলোকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
গালিবাফ একই সঙ্গে ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান একদিকে সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করবে, অন্যদিকে উপযুক্ত সময়ে কূটনীতির মাধ্যমে আলোচনায় অগ্রসর হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন পক্ষের অবস্থানের কারণে সেই আলোচনা পিছিয়ে যায়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালির মাধ্যমে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে হরমুজে চলাচল সীমিত থাকার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালিতে কনটেইনার জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং বিকল্প বন্দর ও স্থলপথ ব্যবহারের কারণে পরিবহন ব্যয় ও সময় বেড়েছে।
তবে হরমুজ প্রণালি কবে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলবে, সে বিষয়ে গালিবাফ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইরানের শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।