Loading...

  • 21 Sep, 2026
সর্বশেষ

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান, ‘দরজা খোলা’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান, ‘দরজা খোলা’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের জন্য আলোচনায় ফিরে আসার ‘দরজা খোলা রয়েছে’। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার নিউইয়র্কে আয়োজিত আল-মন্টর লাইভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে।

ওয়াল্টজ বলেন, ইরান চাইলে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তেহরান শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনায় ফিরবে। একই সঙ্গে ইরানকে আলোচনায় ফেরার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছে—এমন খবরকে তিনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন এই রাষ্ট্রদূত। তার দাবি, দেশটির মুদ্রার বড় ধরনের পতন এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দুর্বল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়াল্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের পর ইরানের সরকার বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং এই দুর্বলতা আরও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরানের জন্য কূটনৈতিকভাবে আলোচনায় ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি গাজা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ওয়াল্টজ। তিনি গাজা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উদ্যোগকে নতুন ধরনের বহুপক্ষীয়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।

ওয়াল্টজের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে একটি প্রশাসন, গাজা পুনর্গঠন এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।

ইসরায়েল ও আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়েও কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আরও কিছু দেশের আগ্রহ রয়েছে। তবে সম্ভাব্য এসব দেশের নাম তিনি প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত বিনিময়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি।

ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের প্রসঙ্গও উঠে আসে ওয়াল্টজের বক্তব্যে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। ওয়াল্টজের মতে, ইরানের বর্তমান দুর্বল পরিস্থিতি দেশটির সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা সামনে এসেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথাও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা ও এর পরিধি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর রয়েছে।

ওয়াল্টজের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ নয়—এমন বার্তাও এসেছে। ফলে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা কবে বা কী শর্তে হবে, সে বিষয়ে ওয়াল্টজ নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি।