বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনার একপর্যায়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হন। তারা মনে করেন, স্থায়ী দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
বৈঠকে রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই নেতা নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের পক্ষে মত দেন, যাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।
কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশেষ করে জ্বালানি, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি খাত, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। জাতিসংঘের অধীনে পানি কূটনীতি বিষয়ক একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজাখস্তানের যে প্রস্তাব রয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন ওলজাস বেকতেনভ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে বলে জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, শ্রমবাজার এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন Khalilur Rahman, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা Humayun Kabir এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব Atiqur Rahman Ruman।