Loading...

  • 28 Jun, 2026

কুমিল্লা বোর্ডে ৮ কলেজে নেই একজনও এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তদন্তের ঘোষণা

কুমিল্লা বোর্ডে ৮ কলেজে নেই একজনও এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তদন্তের ঘোষণা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আটটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশ নিতে পারছে না। এর মধ্যে চারটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেনি, আর বাকি চারটি কলেজে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিষয়টি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পরীক্ষার্থী থাকা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—নোবেল কলেজ, বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ।

চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ১৯৬ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৬০৬ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আটটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাসের হার থাকা ১৩টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেও এবার কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নারী শিক্ষার ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন হলেও ছাত্রদের তুলনামূলক কম অংশগ্রহণের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ড পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সালে কলেজ শাখা চালুর পর এবারই প্রথম তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমে যাওয়ায় এবার মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। তবে তাদের কেউই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

তার মতে, আর্থিক সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা এবং পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে নতুন শিক্ষার্থী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কলেজ শাখা পরিচালনা করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসের বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা চালু করলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। তিনি পরিকল্পিতভাবে কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শূন্য পরীক্ষার্থী থাকা কলেজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট, মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে অনেক ছোট ও নতুন কলেজ অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। কুমিল্লা বোর্ডের এই চিত্র দেশের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জকেও সামনে নিয়ে এসেছে।