Loading...

  • 21 Sep, 2026
সর্বশেষ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের দাম সমন্বয়, জনগণের কষ্টে দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের দাম সমন্বয়, জনগণের কষ্টে দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, বীমা প্রিমিয়াম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের যে বাড়তি চাপ তৈরি হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও বীমা ব্যয়ও বাড়ছে। এসব কারণে দেশের বাজারে আগের দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘বিকল্প ছিল না’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সংকটের প্রভাব প্রতিদিন নতুন মাত্রায় সামনে আসছে। এর সঙ্গে বীমা প্রিমিয়াম ও জাহাজভাড়াও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আগেও জানিয়েছিল, পরিস্থিতি একেবারে উপায়হীন না হলে জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তটি সরকারের জন্যও সহজ ছিল না। জনগণের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করেই দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্তটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে বিদ্যমান মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে। নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

জনগণের কষ্টে দুঃখ প্রকাশ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর মতো একটি সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের যে কষ্ট হবে, তা তিনি উপলব্ধি করছেন।

এ কারণে জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর বক্তব্যে তিনি দাম বৃদ্ধিকে একটি অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় সমন্বয়ের চেষ্টা করার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান সংকট দ্রুত কেটে গেলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তখন জ্বালানি তেলের দাম আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান। তবে সেটি আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

নতুন দামে জ্বালানি তেল

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। এতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ডিজেলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা।

কেরোসিনের দামও প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেই প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে পরিবহন ও বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ

জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পাশাপাশি সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যয় ও বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সরকারও জানিয়েছে, মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংকট দ্রুত কেটে গেলে আগের দাম বা তার চেয়েও কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রির চেষ্টা করা হবে।