Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

নারী ও শিশুর সুরক্ষায় সহিংসতা-যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কঠোর প্রয়োগ জরুরি

নারী ও শিশুর সুরক্ষায় সহিংসতা-যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কঠোর প্রয়োগ জরুরি

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের মর্যাদা রক্ষা এবং সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। শুধু নীতিগত ঘোষণা কিংবা সচেতনতামূলক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; বরং অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় বাধা। এ ধরনের অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ভয়, সামাজিক চাপ, হয়রানি কিংবা ন্যায়বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে দ্বিধা করেন। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে ভুক্তভোগীরা নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং তাঁদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুস্পষ্ট নীতিমালা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ব্যক্তিগত সীমানার প্রতি সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সহায়তা পাওয়ার উপায় জানানোও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সহিংসতা ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার প্রবণতা পরিহার করে অপরাধ প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।

নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব। অপরাধের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সর্বোপরি, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে। অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপ, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বয়েই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার পথ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কঠোর ও কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।