Loading...

  • 21 Sep, 2026
সর্বশেষ

নিজ দেশের বাইরে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজ দেশের বাইরে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাসে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশের বাইরে এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে, যেখানে তাদের আগে থেকে কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে একটি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দেশের নাগরিকদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানোর জন্য ৩৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব চুক্তির বড় একটি অংশের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। অভিবাসী অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জনকে এমন ২৮টি দেশে পাঠানো হয়েছে।

এই অনুসন্ধান পরিচালনায় ১৫টি দেশের ২৬টি সংবাদমাধ্যমের ৭২ জন সাংবাদিকের একটি কনসোর্টিয়াম অংশ নেয়। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেন এবং বিভিন্ন নথি ও তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর কার্যক্রমের পরিসর ও অর্থায়ন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তৃতীয় দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া

সাধারণত কোনো অভিবাসীকে তাঁর নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হলে বা সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস অনুসন্ধানের জবাবে জানিয়েছে, যেসব দেশ নিজেদের নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অথবা যেসব অভিবাসী নিজ দেশে ফিরতে চাননি, কেবল তাদেরই তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত সময় বা নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার পর্যাপ্ত সুযোগও তারা পাননি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে এসব চুক্তি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে চুক্তিতে যুক্ত দেশগুলোর সরকারকে ৮১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে ১৭৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে ১২৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব অর্থ তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা রয়েছে।

৩৫ দেশের সঙ্গে চুক্তি

তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর তৃতীয় দেশের মাধ্যমে অভিবাসীদের অন্যত্র পাঠানোর নীতি বাস্তবায়নে ৩৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তবে এসব চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন দেশ কী শর্তে এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে এবং প্রত্যেক দেশের ক্ষেত্রে কতজন অভিবাসী পাঠানো হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘অফিস অব রিমাইগ্রেশন’ নামের একটি বিভাগ এসব চুক্তির মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখছে বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের সরাসরি নাগরিকত্ব বা পূর্ববর্তী সম্পর্ক নেই।

আদালতের হস্তক্ষেপ

তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি বিতর্কের মধ্যেই গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত এই ধরনের ডিপোর্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই নির্দেশের পেছনে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত নোটিশ না দেওয়া এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত থাকার অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এসেছে।

আদালতের নির্দেশের ফলে তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর মার্কিন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পুরো কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও আইনি প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তাদের অবস্থান বজায় রেখে বলেছে, যেসব অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি অথবা তারা নিজ দেশে ফিরতে চাননি। অন্যদিকে অধিকার সংগঠনগুলো প্রক্রিয়াটিতে অভিবাসীদের অধিকার, যথাযথ নোটিশ এবং আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতি এখন অভিবাসন ও মানবাধিকার—দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।