ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। তিনি জানান, আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তদের মধ্যে প্রিজন ভ্যানে দায়িত্ব পালনকারী সদস্য ও গাড়ির চালকও রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে আসামি কীভাবে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর সুযোগ পেলেন এবং দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেভাবে পালান ‘পিচ্চি রাজা’
পুলিশ ও কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কয়েকজন আসামিকে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে বিকেলে তাদের আবার কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
ফেরার পথে গাজীপুরের নাওজোর-বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা জানান। এরপর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে তিনি পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রিজন ভ্যানে অন্য আসামিরাও ছিলেন। পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
‘পিচ্চি রাজা’র বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চলতি বছরের ১৯ মে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সে সময় তার কাছ থেকে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।