চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ও খলনায়ক চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে মামলার তদন্ত চলাকালে ডনকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
আদালতে ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। মামলার দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। এসব বিষয় তুলে ধরে ডনের জামিন চাওয়া হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা এবং তদন্তের স্বার্থে ডনের জামিন নামঞ্জুর করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আসামিপক্ষের আবেদন গ্রহণ না করে জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর গত ১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন প্রথমবারের মতো নামঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৭ আগস্ট তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আবারও জামিনের আবেদন করা হলে ৫ অক্টোবর আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সালমান শাহ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ঘটনাটি দীর্ঘদিন আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হলেও বিষয়টি নিয়ে সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল। প্রায় তিন দশক পর ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশে তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়টি মামলার সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে সামনে এসেছে। তবে আদালতে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। আগামী ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য রয়েছে।