ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপক। সম্ভাব্য আটক বা গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রস্তুত এবং এতে তার কোনো উদ্বেগ নেই।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে অভিজিৎ বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে চাইলে করতে পারে। এ নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। তার এই বক্তব্য বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো করেছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে নির্বাচনে অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজিতের বার্তা
দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ লেখেন, ‘যন্তর মন্তর ২.০ শুরু হয়ে গেছে।’ একই পোস্টে তিনি জ্ঞানেশ কুমারের সমালোচনা করে নির্বাচনে ভোট চুরিতে সহায়তার অভিযোগ তোলেন।
তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের উদ্দেশ্য এবং নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ধ্রুব রাঠিরও
যন্তর মন্তরের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অংশ নেবেন বলেও জানানো হয়েছে। অভিজিৎ দীপকসহ ককরোচ জনতা পার্টির অন্য নেতারা এর আগে ১০ অক্টোবরের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে তার যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
আন্দোলনে অংশ নিতে ভারতে এসে ধ্রুব রাঠিও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এবং ১০ অক্টোবর দিল্লিতে সবাইকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সমর্থকদের প্রতি একটি প্রকাশ্য আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে জোরদার নিরাপত্তা
ককরোচ জনতা পার্টির পরিকল্পিত বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এবং শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আলোচনায় এসেছে।
নিরাপত্তা জোরদারের সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, তরুণদের প্রতি সরকারের এই মনোভাবের কারণে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। এটি আন্দোলনকারীদের বক্তব্য; এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বেঙ্গালুরু থেকে ফিরে মুম্বাই বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিজিৎও কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তরুণদের এত ভয় পেলে পুরো দেশই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা
যন্তর মন্তরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিযোগ তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে, এ ধরনের অভিযোগের মূল্যায়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, কর্মসূচিতে কতজন অংশ নেন এবং কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে ঘিরে অভিজিৎ দীপকের দৃঢ় অবস্থান, ধ্রুব রাঠির অংশগ্রহণের ঘোষণা এবং দিল্লিতে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।