Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বাঁধা ছিল: তথ্যমন্ত্রী পার্থ

১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বাঁধা ছিল: তথ্যমন্ত্রী পার্থ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত ১৭ বছর ধরে দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে দেওয়া বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং জনগণের কাছে সরকারের কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন পার্থ। তিনি বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিবেচনায় রাখার কথাও বলেন তিনি।

পার্থ আরও বলেন, নতুন দায়িত্বে কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তাদের মাধ্যমে কোনো ধরনের অন্যায় না হয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি টিমওয়ার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্যে দায়িত্ব পালনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের ভোট দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখারও তাগিদ দেন তিনি।

আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যম সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, জনগণের মতামত তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্থের প্রথম কর্মদিবসের বক্তব্যে সরকারের তথ্য প্রচারব্যবস্থার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তিনি একদিকে সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এসেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে তার মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পার্থের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সরকারের অধীনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে তুলে ধরা। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও স্বাধীনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অন্যায় থেকে বিরত থাকা, দলগতভাবে কাজ করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। নতুন দায়িত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সেদিকেও নজর থাকবে।