ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এই কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি শুক্রবার (২১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৩-এর ৮(৫) ধারা অনুযায়ী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয় তৈরির ক্ষেত্রে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদে নতুন নিয়োগ দেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে আশিক চৌধুরীর নিয়োগের মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তার দায়িত্ব, পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা দায়িত্ব পালনের সময় তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। অর্থাৎ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে পূর্ণকালীনভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে হবে এবং স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে—এমন অন্য কোনো পেশাগত বা ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রাখা যাবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এই নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কীভাবে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমাতে কাজ করে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দ্রুত সরবরাহ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা দেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।
চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। দায়িত্ব পালনের সময় আশিক চৌধুরীকে সরকারের নির্ধারিত চুক্তির শর্ত এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে।