Loading...

  • 26 Jul, 2026

২০২৭ হজে প্রথম ধাপে ৩৫৭ এজেন্সির অনুমোদন, অনিয়মে লাইসেন্স বাতিলের কঠোর সতর্কতা

২০২৭ হজে প্রথম ধাপে ৩৫৭ এজেন্সির অনুমোদন, অনিয়মে লাইসেন্স বাতিলের কঠোর সতর্কতা

২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথম পর্যায়ে ৩৫৭টি হজ এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে অনুমোদনের পাশাপাশি এজেন্সিগুলোর জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদিত হজ এজেন্সিগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোনো এজেন্সি যদি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর আগে যোগ্য এজেন্সিগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা এককভাবে বা জোটগতভাবে পূরণ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বা লিড এজেন্সি হজযাত্রী পাঠানোর অনুমতি পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি এজেন্সিকে ই-হজ সিস্টেমে অনুমোদিত প্যাকেজ তৈরি করে সেই প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। প্যাকেজে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানকাল, হোটেলের অবস্থান, কাবা শরিফ থেকে দূরত্ব এবং প্যাকেজের মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এই প্যাকেজই হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।

হজ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে প্রতিটি এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। এই সংখ্যা পূরণ হলেই একজন হজ গাইড নিয়োগের সুযোগ পাওয়া যাবে। কোনো এজেন্সি নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে না পারলে লিড এজেন্সির মাধ্যমে অন্য এজেন্সিতে হজযাত্রী স্থানান্তর করে তাদের হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তিতে পারদর্শী এবং হজ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ গাইড নিয়োগ বাধ্যতামূলক। ই-হজ সিস্টেমে গাইড যুক্ত করার সময় তার পাসপোর্টের তথ্য ও পূর্ববর্তী হজ পরিচালনার অভিজ্ঞতার তথ্যও সংযুক্ত করতে হবে।

সবচেয়ে কঠোর নির্দেশনা হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অনিবন্ধিত ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানো যাবে না। এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া যোগ্য এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অনুমোদিত সব এজেন্সিকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত লাইসেন্স বৈধ রাখতে হবে এবং যেসব লাইসেন্সের মেয়াদ এর আগেই শেষ হবে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে হবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হালনাগাদ হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করাও বাধ্যতামূলক। যোগ্য তালিকার বাইরে থাকা কোনো এজেন্সি আপাতত হজের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে।