Loading...

  • 26 Jul, 2026

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন

শহীদ রাষ্ট্রপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে Detective Branch, Dhaka Metropolitan Police (ডিবি) পুলিশ। পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে তার পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন মোজাফফর হোসেন। বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে থেকে গ্রেপ্তার এড়িয়ে যান। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একাধিক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন।

মামলার রায়ে মোট ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তবে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাদের অন্যতম ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন, যিনি প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় আত্মগোপনে ছিলেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আত্মগোপনে থাকার সময় তিনি একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং পরিচয় গোপন রেখে চলাফেরা করতেন। ফলে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

প্রায় ৪৫ বছর পর তার গ্রেপ্তারকে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক বিধি অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।