Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

৬০ নয়, ৫৫ বছরেই পেনশন পাওয়ার প্রস্তাব—আসছে আরও কয়েকটি সুবিধা

৬০ নয়, ৫৫ বছরেই পেনশন পাওয়ার প্রস্তাব—আসছে আরও কয়েকটি সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রাহকবান্ধব করতে একাধিক নতুন সুবিধা চালুর প্রস্তাব করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো—বর্তমান ৬০ বছর বয়সের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন কর্মসূচি থেকে বের হয়ে জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ এবং পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

৫৫ বছর বয়সে পেনশন

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। তবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এই বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করা হতে পারে। অর্থাৎ প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী অংশগ্রহণকারীরা ৬০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ এবং প্রবাসীদের পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এসব স্কিম চালু করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর পর চারটি স্কিমে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন এবং তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

পাঁচ বছর পর টাকা তোলার সুযোগ

সর্বজনীন পেনশনের বর্তমান ব্যবস্থায় স্কিমে যুক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের আগে স্বেচ্ছায় বের হয়ে জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। নতুন প্রস্তাবে এই নিয়মে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে আর চাঁদা চালিয়ে যেতে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় তার জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মৃত্যুর পর জীবনসঙ্গীর জন্য আজীবন পেনশন

পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও নতুন প্রস্তাবে রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

বর্তমান ব্যবস্থায় পেনশনভোগী ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ করার আগে মারা গেলে তার নমিনি মূল পেনশনভোগীর ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পাওয়ার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এই সুবিধার কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আজীবন পেনশনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরও যেসব সুবিধার প্রস্তাব

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া পেনশন স্কিমে গ্রাহক নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের বিষয়ও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে। পর্ষদের অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলে ৫৫ বছর বয়সে পেনশন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জমা অর্থ উত্তোলন এবং মৃত্যুর পর জীবনসঙ্গীর পেনশন—এসব সুবিধা এখনো প্রস্তাবিত পরিবর্তন, চূড়ান্তভাবে কার্যকর নিয়ম নয়।