ণ ও পাল্টা আক্রমণে তারা আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩৬তম মিনিটে নিজার আল-রাশদানের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় জর্ডান। গোলটি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে জর্ডানের এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে আলজেরিয়া। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে নাদির বেনবুয়ালি সমতাসূচক গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান। গোল হজমের পর জর্ডান কিছুটা চাপে পড়ে যায় এবং সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি আলজেরিয়া।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে আমিনে গুইরি জয়সূচক গোলটি করেন। বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগ দারুণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে তিনি বল জালে পাঠান। এরপর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জর্ডান সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও আলজেরিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে সফল হতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকিয়ে রেখেছে আলজেরিয়া। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। একই সংখ্যক পয়েন্ট রয়েছে অস্ট্রিয়ারও। ফলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠিন লড়াইয়ে নামবে দুই দল। অন্যদিকে, টানা দুই পরাজয়ে জর্ডানের পয়েন্ট শূন্যই রয়ে গেছে।
গ্রুপের শীর্ষস্থান ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা ‘জে’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হারলেও হেড-টু-হেড হিসাবের কারণে আর্জেন্টিনার অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়া জর্ডানের জন্য এটি ছিল ঐতিহাসিক এক আসর। যদিও নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবুও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হয়েছে দলটি। অভিজ্ঞতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
অন্যদিকে, আলজেরিয়ার জন্য এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি শেষ ম্যাচের আগে বড় প্রেরণা হয়ে এসেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ লড়াইয়ে জয় পেলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে তাদের সামনে। ফলে গ্রুপ ‘জে’-তে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই এখন জমে উঠেছে।