ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। মাঝমাঠে বলের দখল এবং দ্রুতগতির আক্রমণে দর্শকদের উপভোগ্য এক লড়াই উপহার দেয় নরওয়ে ও সেনেগাল। তবে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রথমার্ধের শেষ ভাগ পর্যন্ত।
৪৩তম মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক Kalidou Koulibaly-এর একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় পেডারসেন। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পাওয়া গোলটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে নরওয়ে। ৪৮তম মিনিটে অধিনায়ক Martin Ødegaard-এর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে তিনি দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
তবে সেনেগাল দ্রুতই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। ৫৩তম মিনিটে Sadio Mané-এর চমৎকার পাস থেকে গোল করেন Ismaïla Sarr। এই গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করলে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
কিন্তু নরওয়ের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হালান্ড আবারও নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ৫৮তম মিনিটে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করে নরওয়েকে আরও স্বস্তির অবস্থানে নিয়ে যান ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন ইসমাইলা সার। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করলেও সমতায় ফেরার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি সেনেগাল। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ ‘আই’ থেকে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে দলটি এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় সেনেগালের সামনে তৈরি হয়েছে বিদায়ের শঙ্কা। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতে পারে তাদের।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও দারুণ সময় পার করছেন হালান্ড। এই ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন Kylian Mbappé-এর সমান গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক Lionel Messi।
বিশ্বকাপের মঞ্চে হালান্ডের ধারাবাহিক গোল উৎসব নরওয়ের স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলছে। তার ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আসরের শেষ পর্যন্ত নরওয়েকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।