বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১–১ গোলের ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর দলটির অধিনায়ক Cristiano Ronaldo-কে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। ৪১ বছর বয়সী এই তারকার ফর্ম, গতি এবং আক্রমণভাগে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। তবে দলের ভেতরে রোনালদোর প্রতি আস্থা যে অটুট রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তরুণ উইঙ্গার Francisco Conceição।
মঙ্গলবার হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। সেই ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কনসেইসাও বলেন, বাইরের আলোচনা আর দলের ভেতরের বাস্তবতা এক নয়। তার মতে, রোনালদোকে নিয়ে যেসব সমালোচনা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো প্রভাব ড্রেসিংরুমে নেই।
২৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গার জানান, মাঠে রোনালদোকে বল দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ থাকে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী যে খেলোয়াড় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকেন, বল তার কাছেই যায়। তিনি বলেন, দলের খেলার মূল লক্ষ্য হলো সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়া, কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে বল সরবরাহ করা নয়।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেও তিনি মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছেন। পর্তুগালের জার্সিতে কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন বল স্পর্শের রেকর্ড বলে জানা গেছে। ফলে তার বর্তমান ফর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সময়ে ফুটবল বিশ্বের আরেক মহাতারকা Lionel Messi বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সাম্প্রতিক ম্যাচে তার হ্যাটট্রিক এবং ধারাবাহিক গোল করার সক্ষমতা আবারও মেসি-রোনালদো তুলনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও দুই কিংবদন্তির বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে কনসেইসাও এসব তুলনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। তিনি মনে করেন, রোনালদো এখনও পর্তুগালের জন্য অমূল্য সম্পদ। তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং গোল করার মানসিকতা দলের তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
সংবাদ সম্মেলনে কনসেইসাও বলেন, “৪১ বছর বয়সেও ক্রিস্টিয়ানোর গোল করার ক্ষুধা কমেনি। তার পেশাদারিত্ব এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষা আমাদের জন্য উদাহরণ। তিনি এখানে দলকে সাহায্য করতে এসেছেন এবং গোল করার ক্ষেত্রে তার মতো দক্ষতা খুব কম খেলোয়াড়েরই আছে।”
বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে পর্তুগালের জন্য উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে জয় না পাওয়ায় এখন তিন পয়েন্ট অর্জনের বিকল্প নেই বললেই চলে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উজবেকিস্তানও নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া। উদ্বোধনী ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩–১ গোলে হারলেও দলটি লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
পর্তুগাল কোচিং স্টাফের বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের বিচারে তাদের দল এখনও গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নকআউট পর্বের পথে এগোতে হলে আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর হতে হবে এবং সেই দায়িত্বের বড় অংশই থাকবে রোনালদোর কাঁধে।
সব মিলিয়ে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, রোনালদোর ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমালোচনার জবাব মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই দিতে চাইবেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তিনি এখনও পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।