Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার সাফল্যকে বাংলাদেশের মুসলমানদের অর্জন বললেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার সাফল্যকে বাংলাদেশের মুসলমানদের অর্জন বললেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অর্জনকে দেশের মুসলমানদের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের সন্তানরা ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সম্মান জানাতে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের অর্জনকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে না দেখে বৃহত্তর পরিসরে দেখার কথা বলেন। তিনি বলেন, তারা যে পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেটি শুধু তাদের নিজেদের অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।

মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতির কথা

হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা দেশের ভবিষ্যৎ। তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রীয় অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। তার বক্তব্যে দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের অর্জনকে উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে যারা সাফল্য অর্জন করছেন, তাদের উৎসাহ ও যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। মেধাবীদের উৎসাহিত করা হলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশের মানুষ পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব

কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। সৌদি আরবের আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা পুরস্কার অর্জন করেন। তাদের এই সাফল্যের পর বাংলাদেশ সচিবালয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের অর্জনকে দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের সন্তানরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের, দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—এমন প্রত্যাশার কথাও তিনি জানান। আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বার্তা

হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতির বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি জানান, দেশের সন্তানরা তাদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার সেই অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য অর্জনকারীদের উৎসাহিত করার নীতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের হাফেজদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাফল্য এবং তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের সন্তানদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো অর্জনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির যে নীতির কথা বলা হয়েছে, তা শুধু কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হাফেজদের ক্ষেত্রেই নয়, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের জন্য অর্জন বয়ে আনা ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার একটি সাধারণ অবস্থান হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে।