রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শেখ রবিউল আলম বলেন, “আপনারা এই প্রথম বিরোধী দলে হয়েছেন। আমার বিশ্বাস, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। আরও দুই-চারবার বিরোধী দলে থাকলে ধীরে ধীরে সমালোচনা করাটাও শিখে যাবেন।”
তিনি বলেন, বিরোধী দলের সমালোচনাকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি পরিকল্পিত বাজেট উপস্থাপন করেছে। তার মতে, বাজেট হলো রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের একটি সম্ভাব্য রূপরেখা, যা বাস্তবায়নের জন্যই সরকার জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পেয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন। তিনি দাবি করেন, অনুন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শেখ রবিউল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরে রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত ব্যয়ের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন বাজেটে সেটি কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে অপচয় কমানো এবং সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের হার ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও অন্যান্য উন্নয়ন খাতে অধিক বিনিয়োগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝার কথাও উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের সুদ পরিশোধে বর্তমান সরকারকে বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। তার দাবি, এ কারণে সরকারের ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ওপর বিপুল ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে। সেই ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যই আমাদের বাজেটের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। এই চাপ না থাকলে অনুন্নয়ন ব্যয় আরও কমানো যেত।”
বাজেট বিতর্কে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে আনেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বিএনপি সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে চলমান আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই শেখ রবিউল আলমের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের সমালোচনা করার সক্ষমতা নিয়ে তার বক্তব্য সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।