Loading...

  • 26 Jul, 2026

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে জোর প্রস্তুতি, দুবাইয়ে পাঠানো হচ্ছে প্রত্যর্পণ অনুরোধ

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে জোর প্রস্তুতি, দুবাইয়ে পাঠানো হচ্ছে প্রত্যর্পণ অনুরোধ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) Benazir Ahmed-কে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে সরকার। ইতোমধ্যে তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে প্রাথমিকভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসংক্রান্ত ছয়টি মামলার নথি প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এসব মামলার মধ্যে অন্তত একটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

জানা গেছে, নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো সম্ভব হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ পাওয়ার পর আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করবে। তারা যাচাই করবে অভিযোগগুলো আমিরাতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশে ফেরত গেলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকবে কি না। এসব বিষয় সন্তোষজনক হলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন আদালত ও সংস্থায় একাধিক মামলা ও পরোয়ানা রয়েছে। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত ১৭টি মামলা, দুদকের ৬টি মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ৩টি পরোয়ানার তথ্য রয়েছে। তবে প্রত্যর্পণ অনুরোধে এসব মামলার সবগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলো যুক্ত করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অভিযোগগুলোও আপাতত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। কারণ, সরকার চাইছে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি যেন কোনো ধরনের আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতায় বিলম্বিত না হয়।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও পারস্পরিক আইনি সহায়তা (Mutual Legal Assistance Request-MLAR) কাঠামোর আওতায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ, আদালতের নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুতই এসব নথি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। এসব মামলার মধ্যে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের অভিযানসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে অংশ নিতে হবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা। সেই লক্ষ্যে দুদক, পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ট্যাগ:
বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, প্রত্যর্পণ, এক্সট্রাডিশন, দুদক, দুর্নীতি মামলা, পাসপোর্ট জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ পুলিশ, আইনি প্রক্রিয়া।