Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

‘বিজ্ঞান’ শব্দ দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বেছে নেন মিথিলা, ঢাবিতে ভর্তি

‘বিজ্ঞান’ শব্দ দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বেছে নেন মিথিলা, ঢাবিতে ভর্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পেছনে মিথিলার সিদ্ধান্তের গল্পটি বেশ ভিন্নধর্মী। ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ নামের মধ্যে ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি থাকায় বিষয়টিকে বিজ্ঞান বিভাগের কোনো শাখা মনে করেছিলেন তিনি। সেই ধারণা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন মিথিলা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে নাম, বিষয়টির ধরন, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং ব্যক্তিগত আগ্রহ—বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলে। মিথিলার ক্ষেত্রেও বিভাগের নামের সঙ্গে থাকা ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান মূলত সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা, যা রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতা, নীতি ও রাজনৈতিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে অনেক সময় নামের কারণে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় হিসেবে ভুল বোঝার সুযোগ থাকে। ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি থাকলেও এটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নয়। বরং সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং মানুষের রাজনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয় পড়ানো হয় তাত্ত্বিক ও গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতিতে।

মিথিলার ভর্তি হওয়ার ঘটনাটি তাই বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ধারণা ও বাস্তবতার পার্থক্যকে সামনে এনেছে। ভর্তি হওয়ার আগে একটি বিভাগের নাম শুনে শিক্ষার্থী যে ধারণা তৈরি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেই বিষয় সম্পর্কে তার ধারণা পরিবর্তিত হতে পারে। মিথিলার ক্ষেত্রেও ‘বিজ্ঞান’ শব্দকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রাথমিক ধারণা পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃত বিষয়বস্তুর সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি পরিচিত সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ। এখানে রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করা হয়। রাষ্ট্রের কাঠামো, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক তত্ত্ব, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠক্রমে আলোচনা হতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে বিশ্লেষণ করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সঙ্গে সমাজে ক্ষমতার বণ্টন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক নিয়েও পড়াশোনা করা হয়। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের বিস্তৃত সম্পর্ক বিশ্লেষণ করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মিথিলার গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে মূলত তার বিষয় নির্বাচনের কারণের জন্য। ‘নামে বিজ্ঞান আছে’—এই ধারণা থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। বিষয়টি একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে পছন্দের বিভাগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় শুধু বিভাগের নামের ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যক্রম, বিষয়বস্তু, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ একই শব্দ বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্রে ভিন্ন অর্থ ও প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হতে পারে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি তার গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণাত্মক চরিত্র বোঝালেও এটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

মিথিলার ভর্তি হওয়ার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত একটি মজার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নামের প্রভাবের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ‘বিজ্ঞান’ শব্দ দেখে যে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানই এখন তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পড়াশোনার অংশ।