শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষিজমি, ফসল এবং কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা হলে সেই তালিকার ভিত্তিতেই সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
আমিনুর রশিদ ইয়াসিন আরও বলেন, ক্ষতির ধরন অনুযায়ী কৃষকদের বীজ, সার, কৃষি উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকেরা যেন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের লুটপাট ও অনিয়মের সংস্কৃতি এখনও কিছু মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করছেন। ফলে এই কর্মসূচিতে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।