নতুন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশ করেছে টাইগাররা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। শুরুতে ওপেনাররা কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও বড় জুটির দেখা মেলেনি। দলীয় ২৬ রানের মাথায় ১০ রান করে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম। তার বিদায়ের পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান। তবে তিনিও ২০ রানের বেশি এগোতে পারেননি।
নতুন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকিয়ে ভালো কিছুর আভাস দিলেও সেই ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রতিপক্ষের স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর দ্রুত উইকেট হারানোর মিছিলে যোগ দেন সৌম্য সরকার, ইমন এবং শামীম পাটোয়ারী। সৌম্য ১৭ রান, ইমন ১০ রান এবং শামীম মাত্র ১ রান করে আউট হন। ফলে মাত্র ৭৮ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
মধ্যক্রমে অভিষিক্ত সাকলাইন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১০ বলে ১০ রান করে তিনিও ফিরে গেলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়। শেষদিকে রিশাদ হোসেন ৩ রান করে আউট হলে একশোর আগেই ৮ উইকেট হারানোর লজ্জায় পড়ে স্বাগতিকরা।
নিচের সারির ব্যাটাররা কিছু রান যোগ করলেও ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৩১ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। পুরো ইনিংসে কোনো ব্যাটারই দায়িত্বশীল ও দীর্ঘস্থায়ী ইনিংস খেলতে না পারায় প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য তুলনামূলক সহায়ক হলেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নতুন নেতৃত্বে নতুন শুরুর প্রত্যাশা থাকলেও প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ইউনিটের এমন পারফরম্যান্স দলীয় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এখন ম্যাচে টিকে থাকতে হলে বোলারদের অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে। তুলনামূলক কম পুঁজি নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের জন্য প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।