Loading...

  • 26 Jul, 2026

চলতি বছরই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, দিলেন দৃঢ় বার্তা

চলতি বছরই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, দিলেন দৃঢ় বার্তা

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে অবস্থানের পর চলতি বছরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আইনি জটিলতা এবং নানা ধরনের বাধা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়। বরং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার রাজনৈতিক জীবন পরিচালিত হয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি ফিরে আসতে চাই।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটময় সময়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বহুবার জীবনসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এসব অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ় করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। অতীতে বহু প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছি। জনগণের পাশে থেকেছি। এবারও সব বাধা অতিক্রম করে আমি আমার মাতৃভূমিতে ফিরে আসব।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি সংগঠন। দীর্ঘ ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহুবার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু জনগণের সমর্থনে প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে। তবে জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের সদিচ্ছা বা রাজনৈতিক অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমাবেশ ও মিছিল করছেন, যা দলটির জনপ্রিয়তা এবং পুনরুত্থানের ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মৌলিক রাষ্ট্রীয় আদর্শ—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং এটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য গোপন দর-কষাকষির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্র, নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার সাংবিধানিক অধিকার, যা কোনো সমঝোতার বিষয় হতে পারে না।

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন সবসময় বাংলাদেশের মানুষের কাছে পড়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের মানুষ, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত ভাবেন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে সংগ্রামের শক্তি জোগায়।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে এবং জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।”