ময়মনসিংহে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এ সময় অপহৃত মো. আব্দুস সামাদ (৩১) নামে ওই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর জালালের মোড় এলাকায় নটরডেম কলেজের পেছনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহের চুরখাই এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি আব্দুস সামাদকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। এ সময় তারা নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। পরে তাকে নগরীর জালালের মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, তাকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুক্তিপণের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাতের পর পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পায়। কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই (নিঃ) মো. কাদিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ জালালের মোড় এলাকায় তৎপরতা শুরু করে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলের মাঝখানে থাকা ব্যক্তির আচরণ পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, টহলরত এএসআইয়ের সঙ্গে ওই ব্যক্তির চোখাচোখি হয়। তার শারীরিক ভাষা ও আচরণ দেখে পুলিশ সদস্যের সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকেন তিনি। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর একটি নির্মাণাধীন ভবনের দিক থেকে ওই ব্যক্তির চিৎকার শুনতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন দিনাজপুরের খানসামার শামীম ইসলাম সবুজ (৩৫), ময়মনসিংহের আল-আমীন (২০), শেরপুরের ফারুক আহম্মেদ (৩৫), ময়মনসিংহের পিয়াস মিয়া (২২) এবং দিদারুল ইসলাম (৫৮)। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, সাতটি মোবাইল ফোন ও একটি ভুয়া পরিচয়পত্র জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তার পরিচয় ও অতীতের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া সামগ্রী এবং তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। একই ধরনের অন্য কোনো ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে কাজ করছে।